এই ব্লগ পোস্টটি ঘর সাজানোর জন্য অর্থসাশ্রয়ী এবং সৃজনশীল উপায় নিয়ে আলোচনা করে। পুরানো ফার্নিচার পুনঃব্যবহার, স্থানীয় বাজারের বিশেষ পণ্য, সবুজ উদ্ভিদ ও ফুলের ব্যবহার এবং DIY প্রকল্পের মাধ্যমে ঘরকে আকর্ষণীয় এবং আরামদায়ক করে তোলার নানা কৌশল তুলে ধরা হয়েছে। উন্নত স্থান ব্যবস্থাপনা এবং রঙের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে আপনার ঘরকে আবার সাজান এবং সৃজনশীলতার নতুন মাত্রা যোগ করুন।
কম খরচে ঘর সাজানোর কয়েকটি উপায়
জিনিসপত্রের পুনঃব্যবহার
ঘর সাজানোর জন্য নতুন জিনিস কেনার সময় প্রাচুর্য থাকে, কিন্তু অনেক সময় এটি অত্যधिक খরচবহুল হয়ে পড়তে পারে। সেক্ষেত্রে, পুরানো বা ব্যবহৃত জিনিসপত্রের পুনঃব্যবহার একটি শ্রেষ্ঠ সমাধান। পুরাতন ফার্নিচার, ঘরের নিত্যপ্রয়োজনীয় বস্তু বা এমনকি কিছু অলংকারও নতুন থেকে রিপ্লেস করার তুলনায় অনেক বেশি কার্যকরী ও সাশ্রয়ী হতে পারে।
যখন পুরনো জিনিসপত্রকে নতুনভাবে সাজানোর কথা আসে, তখন প্রথমেই ভাবতে হবে তাদের কিভাবে রিসাইকেল করা যায়। উদাহরণস্বরূপ, একটি পুরানো কাঠের টেবিলকে পুনঃসংস্কার করে তা সবার নজর কাড়তে পারে। টেবিলটির পৃষ্ঠকে স্যান্ড করে বা নতুন রং দিয়ে পুনরুদ্ধার করা যেতে পারে। তাছাড়া, বিভক্ত অংশগুলোকে পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে নতুন ডিজাইন তৈরি করাও সম্ভব। একইভাবে, ব্যবহৃত চেয়ারগুলোকে নতুন কাপড়ের আবরণে ঢেকে বা এমনকি নতুন অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একদম নতুন ভাবে আনা সম্ভব।
এছাড়া, অনেক সময় পুরানো বস্তু দিয়ে নতুন তৈরির কৌশলও অবলম্বন করা যায়। যেমন, একটি পুরানো হ্যান্ডব্যাগকে ছোট আলমারির রূপে পরিবর্তন করা, বা পুরনো ফ্রেম ব্যবহার করে দেওয়ালে নতুন আঁকা ছবি ঝোলানো। এই ধরনের কার্যক্রম শুধু শুধুমাত্র অর্থ সাশ্রয়ই করে না, বরং সৃজনশীলতারও একটি নতুন মাত্রা যোগ করে। সমগ্র প্রক্রিয়া স্বতঃস্ফূর্ত এবং আনন্দদায়ক হতে পারে, যেটি আপনার ঘরকে শুধুমাত্র পরিবর্তন করে না বরং একটি বিশেষ চরিত্র প্রদান করে।
স্থানীয় বাজারের জিনিসপত্র
স্থানীয় বাজারে কেনাকাটা একটি অর্থনৈতিক উপায়, যা ঘরের সাজসজ্জায় নান্দনিকতাকে সাধ্যের মধ্যে রক্ষা করতে সাহায্য করে। এখানে অনেক দরকারি এবং সুন্দর জিনিস পাওয়া যায়, যা স্থানীয় কারিগর ও শিল্পীদের হাতের কাজ। এই সব ধরনের পণ্য শুধু সাশ্রয়ী নয়, বরঞ্চ স্থানীয় সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের প্রতিফলনও করে। তাই আপনি যখন স্থানীয় বাজারে যান, তখন আপনি শুধুমাত্র পাচ্ছেন না সস্তা জিনিসপত্র, বরং সেগুলো আপনার বাড়ির জন্য একটি বিশেষ আদল যোগ করতে সক্ষম।
স্থানীয় হস্তশিল্পের পণ্য যেমন কাঁথা, তৈজসপত্র, দেয়াল শিল্প এবং শৈল্পিক দ্রব্যাদি ক্রয় করলে ঘরের আভিজাত্যের পাশাপাশি স্থানীয় শিল্পীদের সমর্থনও হয়। এই পণ্যগুলোর প্রতি একাধিক শ্রেণির হাতে তৈরি হয় এবং জনপ্রিয়তা অনুযায়ী অর্ডার পাওয়ার জন্য বিশেষ ডিজাইন করা হয়। ফলে আপনি আপনার ঘরে একটি অনন্য এবং ব্যক্তিগত স্পর্শ যোগ করতে পারেন।
আপনি যখন স্থানীয় বাজারে যান, তাই চেষ্টা করুন যা কিনছেন তা হলে স্থানীয়ভাবে প্রস্তুত। এটি নিশ্চিত করবে যে আপনার সংগ্রহের উপাদানগুলো অল্প খরচে আপনার ঘরের শোভা বাড়াতে সক্ষম। এছাড়া, আপনি স্থানীয় পণ্যের ক্রয় করলেই সেই সংস্কৃতির সাথে সম্পর্কিত একটি গভীর চিন্তা ও নৈতিক মূল্যবোধ তৈরি হয়। উপরন্তু, হাতের কাজগুলোর বিশেষত্ব মাঝে মাঝে শিল্পের মূল্যবোধকে বাড়িয়ে তোলে, যা কিনা স্থানীয় অথাৎ অনন্য।
বিশেষত স্থানীয় বাজারের পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন। এটি নিশ্চিত করবে যে আপনি আপনার জীবন ও ঘরের পরিবেশকে আরও সুন্দর এবং অভিজাত করতে সক্ষম হচ্ছেন এক স্বতন্ত্র ও অর্থপূর্ণ উপায়ে।
সবুজ উদ্ভিদ ও ফুলের ব্যবহার
বাড়ির পরিবেশকে আরও সজীব এবং আকর্ষণীয় করে তোলার অন্যতম উপায় হলো সবুজ উদ্ভিদ এবং ফুলের ব্যবহার। গাছপালা এবং ফুল আমাদের ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী। গবেষণায় দেখা গেছে, ঘরে গাছপালা রাখলে অক্সিজেনের মাত্রা বাড়ে এবং মানসিক চাপ কমে যায়। এজন্য বিভিন্ন ধরনের গাছ এবং ফুল নির্বাচন করা যেতে পারে, যা ঘরের ভিজ্যুয়াল এপিলকে উন্নত করে।
বিভিন্ন প্রকারের গাছপালা নির্বাচন করার সময় ঘরের আলোর অবস্থা এবং স্থান এর পরিমাণের দিকে লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন। যেমন, কিছু গাছ বেশি আলো প্রয়োজন, আবার কিছু গাছ কম আলোতেও ভালোভাবে বেড়ে উঠে। উষ্ণ আবহাওয়ার জন্য আদর্শ কিছু গাছ হলো কৃষ্ণচূড়া এবং বিলবেঞ্চি, যা আপনাকে দেবে ভিন্ন সৌন্দর্য। এছাড়াও, কম আলোর স্থানগুলোর জন্য এখানে স্পাইডার প্ল্যান্ট এবং প্যাস্না গাছ একটি চমৎকার নির্বাচন।
ফুল গাছের ব্যবহারেও বাড়িতে সাজসজ্জা করা সম্ভব। যেমন, গুলাব এবং জিপসফিলা ফুলগুলি একটি রোমান্টিক আবহ জুড়ে দেয়, যা অতিথিদের আকৃষ্ট করতে সাহায্য করে। এছাড়া, মৌসুমি ফুলের ব্যবহার বাড়ির সাজে বৈচিত্র্য আনে। ফুলের পাশাপাশি গাছপালাগুলোর অবস্থান এবং সজ্জাও খুব যত্ন সহকারে করতে হবে; যেমন, সজ্জাতে টেবিলের উপর ছোট গাছ এক ভিন্ন রকমের সৌন্দর্য সৃষ্টি করে।
গাছপালা এবং ফুলের যথাযথ ব্যবহার করেও সহজে এবং কম খরচে ঘর সাজানো যেতে পারে। সবুজ উদ্ভিদ এবং ফুলের মাধ্যমে ঘরের আবহাওয়া আরও প্রানবন্ত এবং মনোরম হয়ে ওঠে, যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে একটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
DIY (নিজে করো) প্রকল্প
নিজের হাতে তৈরি জিনিসপত্র বা DIY প্রকল্পে ঘর সাজানোর মাধ্যমে সৃজনশীলতা প্রকাশ করা সম্ভব। এই ধরণের প্রকল্পগুলি সাধারণত কম খরচে সম্পন্ন করা যায় এবং এর ফলে আপনি নিজস্ব স্টাইল অনুযায়ী আপনার ঘরটি সাজাতে পারবেন। জনপ্রিয় কিছু DIY প্রকল্পের মধ্যে আছে ফার্নিচার পুনরুদ্ধার, সজ্জা তৈরি, এবং গ্রীন প্ল্যান্ট পট তৈরি। এই সমস্ত প্রকল্পে আপনার আগ্রহ এবং সৃজনশীলতার মিশ্রণ ঘটিয়ে ঘরকে একটি নতুন রূপ দেওয়া সম্ভব।
একজন শৌখিন DIY প্রেমিক হিসেবে, আপনি পুরানো ফার্নিচারকে নতুন আড়ম্বর দিতে পারেন। যেমন, একটি পুরানো কাঠের স্টুলকে রঙিন পেইন্ট দিয়ে সাজানো যেতে পারে। অথবা, সঠিক টেক্সচার এবং রং নির্বাচন করে একটি নতুন কুশন তৈরি করুন। এগুলোর মাধ্যমে আপনি আপনার বাজেট অনুযায়ী ঘর সাজানোর কাজকে উপভোগ্য করে তুলতে পারেন।
আবার, দেয়ালে কিছু সজ্জা তৈরি করলেও আপনার ঘরকে নতুন রূপ দেওয়া সম্ভব। বিভিন্ন হাতের কারুকাজ, পেইন্টিং বা প্রাকৃতিক উপকরণ যেমন কাঠের ক্যারেন্ড বা পাথরের ব্যবহার করে এবং সেগুলিকে দেয়ালের সাজসজ্জায় যোগ করলে ডিজাইন বৈচিত্র্য বৃদ্ধি পায়।
সিেএফ পরিকল্পনাগুলি সহজ ও উন্মুক্ত, তবে এগুলি সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য সামান্য প্রস্তুতি ও উপকরণ প্রয়োজন। আপনাকে শুধু আপনার পছন্দসই আইডিয়া নির্বাচন করতে হবে এবং শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ করতে হবে। তাছাড়া, অনেক অনলাইন টিউটোরিয়াল ও পিডিএফ গাইড রয়েছে, যা আপনাকে পছন্দের প্রকল্পগুলি বাস্তবায়নে সাহায্য করবে। এগুলি দিয়ে আপনি সহজে বুঝতে পারবেন কিভাবে ব্যয়বহুল ফার্নিচার বা সজ্জা বাদ দিয়ে নিজে একটি সুন্দর পরিবেশ তৈরি করতে পারেন।
রঙের ব্যবহার
ঘরের অভ্যন্তরীণ রঙ নির্বাচন রুমের পরিবেশ এবং অনুভূতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সঠিক রঙ শুধুমাত্র স্থানের দেখনাগোর স্থায়ী প্রভাব বিস্তার করে না, বরং এটি মনের আবেগ এবং অনুভূতিগুলোকেও প্রভাবিত করে। রঙের মনোগ্রহের প্রভাবের কথা মনে রেখে, বাড়ির ভেতরের বিভিন্ন জায়গার জন্য বিভিনরঙ নির্বাচন করা উচিত। উদাহরণস্বরূপ, সবুজ একটি শীতল এবং শান্ত আবহ তৈরি করে, যা বিশ্রামের জন্য আলাদা করে। অন্যদিকে, উজ্জ্বল হলুদ বা কমলা রঙে সজ্জিত কোনো জায়গা প্রাণবন্ততা ও উৎসাহ বাড়ায়।
অতএব, খরচ কমানোর জন্য সঠিক রঙ নির্বাচন করাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানুষেরা কিনা রঙিন পেইন্ট অথবা রঙিন ওয়ার্কশপের মাধ্যমে নিজেদের ঘরের রঙ পরিবর্তন করতে পারে। এলব্রোর কাজ করার সময়, স্থানটিকে অনেকটা স্বচ্ছন্দ এবং আনন্দময় করে তুলতে পারে। ঘরের রঙ পরিবর্তনে খরচ কমাতে সাধারণত একটি বা দুটি রঙ ব্যবহার করা বাঞ্ছনীয়, যা একই সঙ্গে আকর্ষণীয় ও আরামদায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করে।
রঙের ব্যবহারের মাধ্যমে ঘরের শক্তি ও আভা পরিবর্তন করা সম্ভব। বিশেষত, আধুনিক ডিজাইন প্যাটার্নে সাদা, নীল এবং হালকা ধূসর রঙের ব্যবহার বেড়ে চলেছে। এসব রঙের সংমিশ্রণ একটি প্রশান্তিদায়ক এবং খোলামেলা অনুভূতি প্রদান করে, যা ব্যয়বহুল সজ্জার বিকল্প। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ঘর সাজানোর সময় রঙের নির্বাচন প্রাণশক্তি এবং আরাম নিয়ে আসবে, যা কেবল একটি খরচ সাশ্রয়ী সমাধান নয়, বরং সৃজনশীলতা ও ব্যক্তিত্বকে উন্নত করারও সুযোগ করে দেয়।
প্রাকৃতিক আলো এবং বায়ু প্রবাহ
ঘরে প্রাকৃতিক আলো এবং বায়ু প্রবাহ বৃদ্ধি করায় একটি নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরিতে সহায়তা করে। ঘরের আলো ও বায়ু প্রবাহের সঠিক ব্যবস্থাপনা আমাদের মানসিক এবং শারীরিক স্বাস্থ্যকে উন্নত করতে পারে। সবচেয়ে প্রথমে, যদি সম্ভব হয়, ঘরের জানালাগুলি বিস্তৃত এবং উন্মুক্ত রাখুন। উজ্জ্বল প্রাকৃতিক আলো, যা দিনে সূর্য থেকে আসে, তা ঘরের পরিবেশকে উজ্জীবিত করে। এতে ঘরের অভ্যন্তরে একটি স্বাভাবিক উষ্ণতা এবং জীবনশক্তি প্রবাহিত হয়।
প্রাকৃতিক আলো ব্যবহারে কিছু সহজ টিপস অনুসরণ করা যেতে পারে। প্রথমে, হালকা রংয়ের প্রদীপ বা দেওয়াল আপনার ঘরে আলো প্রতিফলিত করতে সহায়তা করবে। এছাড়া, খোলামেলা জানালার কাঠামো এবং পর্দার নির্বাচনে এমন উপাদান ব্যবহার করুন যা আলোক প্রবাহ বাধা সৃষ্টি না করে। অস্বচ্ছ বা তুঁত পাৰদর্শী পর্দাগুলি প্রাকৃতিক আলোককে সীমাবদ্ধ করতে পারে, তাই পর্দা নির্বাচন করার সময় এ বিষয়টি মাথায় রাখুন।
বায়ু প্রবাহের জন্য, জানালার স্ট্র্যাটেজিক স্থাপন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জানালার দ্বার করে বা ছোট স্থানে হালকা বাতাস প্রবাহিত হতে সাহায্য করে। যদি সম্ভব হয়, মেঝেতে রুফ বা কভার ব্যবহার করে যাতে বায়ু একটি সুবিধাজনক প্রবাহ তৈরি করতে পারে। সম্পাদকীয় উপকরণের মতো, পরিহাস যুক্ত শস্যক্ষেত্র বা গাছপালা স্থান বসাতে পারেন, যা কেবল বায়ু প্রবাহ উন্নত করে না, বরং ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। অতএব, প্রাকৃতিক আলো এবং বায়ু প্রবাহের সঠিক ব্যবস্থাপনা আপনাকে কম খরচে ঘর সাজানোর ক্ষেত্রে খুবই সহায়ক হতে পারে।
ফটোগ্রাফি ও আর্টওয়ার্ক
ঘরের সাজসজ্জায় নতুনত্ব আনতে ফটোগ্রাফি এবং শিল্পকর্মের গুরুত্ব অপরিসীম। সাধারণত, শিল্পকর্ম একটি স্থানকে আরো ব্যক্তিগত এবং প্রাণবন্ত করে তোলে। বিশেষ করে, স্বনির্মিত ফটোগ্রাফি বা শিল্পকর্ম ব্যবহার করার মাধ্যমে একে বিশেষভাবে আলাদা করে তোলা যায়। আপনি সহজেই আপনার পরিবার, বন্ধু, বা আপনার পছন্দের স্থানগুলোর ছবি তুলে সুন্দর ফ্রেমে সাজাতে পারেন। এটি শুধু সৌন্দর্যই আনবে না, বরং আপনার স্মৃতি এবং সম্পর্কগুলিকে আরও গভীর করবে।
স্বশিক্ষিত শিল্পী বা ফটোগ্রাফার হওয়ার প্রয়োজন নেই। আপনার সৃজনশীলতা মাথায় রাখলে, আপনি সহজেই সাধারণ উপকরণ ব্যবহার করে আকর্ষণীয় আর্ট পিস তৈরি করতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, একটি ক্যানভাস এবং কিছু জলরং বা অ্যাক্রিলিক ফ্রেম নিলে আপনি একটি চমৎকার পেইন্টিং তৈরি করতে পারেন। এর আরেকটি সুবিধা হলো, আপনি প্রবণতা অনুযায়ী নিজের রুচি অনুযায়ী সাজাতে পারবেন।
ফটোগ্রাফি এবং শিল্পকর্মের মাধ্যমে ঘরে নতুন রূপ দেওয়ার আরো একটি উপায় হল শিল্প প্রদর্শনী বা স্থানীয় বাজার থেকে খুব কম দামে আকর্ষণীয় কাজ সংগ্রহ করা। স্থানীয় শিল্পীদের কাজগুলোতে প্রায়ই বিশেষ বৈচিত্র্য থাকে যা আপনার ঘরে একটি আলাদা মাত্রা যোগ করবে। এছাড়াও, আপনি দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করে আর্টওয়ার্ক তৈরি করতে পারেন। যেমন, পুরনো ম্যাগাজিনের ছবি কেটে একটি থিম তৈরি করা অথবা প্রাকৃতিক উপকরণ যেমন পাতা বা ফুল দিয়ে তৈরি ফ্রেম। এটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, কারণ এটি বিভিন্ন শিল্পের সমন্বয় ঘটায় এবং আপনার ঘরে একটি বৈচিত্র্যময় পরিবেশ তৈরি করে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের স্থান
বাড়ির স্থান ব্যবস্থাপনা একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক যা আমাদের জীবনের প্রতি প্রভাব ফেলে। অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে ফেলা এবং কার্যকরী স্টোরেজ সমাধান ব্যবহার করে আমরা আমাদের বাড়ির পরিবেশকে সুন্দর এবং কার্যকরী করে তুলতে পারি। প্রথমত, স্থান সংকোচন করার জন্য আমাদের উচিত অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পরিষ্কার করা। অনেক সময় পুরনো কিংবা ব্যবহারহীন জিনিস বাড়ির স্থান ব্যবহার করে, যা আমাদের দৈনন্দিন কার্যকলাপে সমস্যা সৃষ্টি করে। তাই নিয়মিত সময়ে কমপক্ষে একটি দিন নির্ধারণ করা উচিত যেখানে আমরা বাড়ির প্রতিটি কক্ষে পুরনো ও অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে ফেলব।
স্থান ব্যবস্থাপনার জন্য কিছু কার্যকর সমাধান হলো বুকশেলভ, অলংকারের বাক্স এবং সংরক্ষণ ব্যাগ। বই, পত্রিকা, এবং অকেজো সামগ্রী গুলি রাখা যাবে বুকশেলভে, যা একদিকে ফাঁকা স্থান তৈরি করবে এবং অন্যদিকে সাজানোও থাকবে। আর কিছু স্থান কমানো বিষয়ক যদি আমরা মনে করি, তাহলে নিচের সেল্ফ ব্যবহার করা খুবই উপকারী। এখানে আপনার সকল অতিরিক্ত আইটেম যেমন ক্রীড়া সামগ্রী বা মোড়ানো জিনিসপত্র সুরক্ষিত রাখতে পারবেন।
অন্যদিকে, ফ্ল্যাট প্যাক করুন অথবা ঝুলন্ত উপকরণ ব্যবহার করে স্থান সঞ্চয় করা যেতে পারে। যে সমস্ত জিনিসগুলো ছোট ও অল্প জায়গা নেয়, সেগুলোকে আমরা যেন সবসময় সহজে প্রবেশযোগ্য স্থানে রাখি, তা নিশ্চিত করা উচিত। স্থান ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে এই কৌশলগুলোতে ভিন্নতা আনা যেতে পারে, যা আপনার বাড়ির স্থানকে আপনার জন্য আরও কার্যকরী ও সুদৃশ্য করে তুলবে।
ফ্রি বা কম খরচে উৎস
কম খরচে বা ফ্রি জিনিস সংগ্রহ করার জন্য কয়েকটি কার্যকর উৎস রয়েছে, যা বিশেষ করে ঘর সাজানোর ক্ষেত্রে উপকারী হতে পারে। প্রথমত, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলি ব্যবহার করা একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় পদ্ধতি। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং টুইটারের মাধ্যমে বিভিন্ন গ্রুপ এবং পেজে যোগদান করে স্থানীয়ভাবে ব্যবহৃত জিনিসপত্র বিনিময় বা ফ্রি স্টাফ পাওয়া যায়। ‘ফ্রি সাইকেল’ জাতীয় গ্রুপগুলোর মাধ্যমে আপনি নিজেদের অপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলো অন্যদের সাথে ভাগাভাগি করতে পারবেন, যার ফলশ্রুতিতে ঘর সাজাতে খরচ কমে যাবে।
দ্বিতীয়ত, স্থানীয় বিনিময় ক্লাবগুলোতে যোগদান করাও একটি চমৎকার উপায়। এই ক্লাবগুলোতে সদস্যরা নিজেদের অপ্রয়োজনীয় মালামাল একে অপরের সাথে বিনিময় করে। কোনো নির্দিষ্ট জিনিসের প্রয়োজন হলে, আপনি ক্লাবের সদস্যদের মধ্যে সাহায্য চাইতে পারেন। এভাবে, অধিকাংশ সময়ই আপনাকে নতুন জিনিস কিনতে হবে না, বরং অন্যের দ্বারা ব্যবহৃত জিনিসগুলো ব্যবহার করতে পারবেন। স্থানীয় সম্প্রদায়ের সদস্যদের সাথে সম্পর্ক স্থাপনও আপনার জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।
আরেকটি উত্স হলো স্থানীয় ইভেন্ট বা বাজার। অনেক সময় জিনিসপত্র উপহার দেওয়ার বা বিনিময় করার জন্য স্থানীয় উৎসবে আয়োজন করা হয়। এই ধরনের ইভেন্টগুলোতে আপনার প্রয়োজনের জিনিসগুলো অনায়াসেই খুঁজে পাবেন। আসলে, বিভিন্ন উৎসব ও প্রোগ্রামের মাধ্যমে স্থানীয় সামাজিক জীবন সক্রিয় হয় এবং নতুন বন্ধু বানানোর সুযোগ তৈরি করে, যা আপনার ঘর সাজানোর জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহে সহায়ক হতে পারে। এভাবে আপনার বাজেট বজায় রেখেও একটি সুন্দর এবং আকর্ষণীয় ঘর তৈরি করা সম্ভব।



